মোঃ শহিদুল ইসলাম, (টাঙ্গাইল) বিশেষ প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলে যমুনা ও ঝিনাই নদীর পানি কমতে থাকায় নদী তীরবর্তী পাঁচটি উপজেলার চরাঞ্চলে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এলাকাগুলো হলো- টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, নাগরপুর, ভূঞাপুর ও বাসাইল উপজেলা। গত কয়েকদিন ধরে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ইতিমধ্যে উল্লিখিত এলাকাগুলোর বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, মসজিদ, মাদরাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ তিন শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেললেও যমুনার করাল থাবা থামাতে পারছে না।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে গত এক সপ্তাহে ঝিনাই নদীর প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় হঠাৎ ভাঙনে ২০-২৫টি ঘর-বাড়ি, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। অনেকে ঘর-বাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ আবার বাড়ি-ভিটা শেষ সম্বল হারিয়ে পথে বসেছেন। ভাঙনের শঙ্কায় পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিলপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ-এর বীর নিবাস। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসীর।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের ঘর-বাড়ি, তাঁত-শিল্প, স’মিল ও হাট-বাজার যমুনার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও ভাঙনের কবলে পড়েছে মাহমুদ নগর ইউনিয়নের মাকরকোল, কেশবমাইঝাইল, তিতুলিয়া, নয়াপাড়া, কুকুরিয়া, বারবাড়িয়া, কাতুলী ইউনিয়নের দেওরগাছা, রশিদপুর, ইছাপাশা, খোশালিয়া, চানপাশা ও নন্দপাশা, হুগড়া ইউনিয়নের মসপুর, বারবেলা, চকগোপাল ও কচুয়া।
কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের আলীপুর ও ভৈরববাড়ী।
নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের পাইকশা মাইঝাইল, খাস ঘুণি পাড়া, খাস তেবাড়িয়া, চর সলিমাবাদ ও ভূতের মোড়। ভারড়া ইউনিয়নের শাহজানি, ভারড়া, পাঁচতারা ও আগদিঘলীয়া।
ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ী, কষ্টাপাড়া ও ভালকুটিয়া। তবে উপজেলার ভালকুটিয়া এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেশি।
ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউপি চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান বাবলু – গণ টেলিভিশন কে জানান, ভাঙনের শিকার হয়ে তাঁর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ জায়গা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের ভাঙনে ইউনিয়নের ভালকুটিয়া গ্রামের বহু স্থাপনা ও ঘর-বাড়ি যমুনার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেললেও তা কোন কাজে আসছে না। তিনি উপজেলার গোবিন্দাসী নৌকার ঘাট থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নে চরপৌলী হাটখোলা সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড হাটখোলাটি রক্ষার জন্য জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে ৩০০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলেছে। তবে জিওব্যাগগুলো যমুনার তীব্র ঘূর্ণাবর্তে তলিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের বিশাল এলাকা প্রতিবছরই যমুনার ভাঙনের শিকার হয়। এই ভাঙন রোধে গত তিন বছর আগে একটি স্থায়ী বাঁধের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছরেও প্রকল্পটি অনুমোদন না পাওয়ায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
Leave a Reply